শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:৫৬ পিএম, ২০২১-০৯-০৫
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দেশের ১৩টি জেলা। ২১ পয়েন্টে ৯টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে। গঙ্গা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিদ ও পাউবো। কিছু এলাকায় পানি কমলেও নদীভাঙন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো দেখা দিয়েছে। এতে ভানভাসি মানুষের কষ্ট আরো বেড়ে গেছে।
দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো : বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পাবনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ। বন্যায় ডুবে বেছে রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, বসতি ও হাঁস-মুরগি। গরু--ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার কৃষিজীবী মানুষ।
এসব এলাকার মানুষের কৃষিজমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর সঙ্গে ভেসে গেছে তাদের লালিত স্বপ্নও। এই স্বপ্নভঙ্গ মানুষগুলো নিজেদের আবাদি ফসল ও চাষের মাছ হারিয়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা হতাশ। এসব মানুষের পাশে বীজ-সারসহ কৃষি উপকরণ নিয়ে কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জরুরি।
বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাব চরমে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষ বন্যার পানি পান করছে। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটের পীড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এমনিতেই বন্যার দূষিত পানিতে হাঁটা-চলা করতে গিয়ে অনেকে নানা ধরনের চর্ম রোগে ভুগছে। বন্যার পর গবাদিপশুর খুরা রোগ দেখা দেয়, এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ বিভাগের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের দাবি জনগণের।
বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কিছুটা সহযোগিতা করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় সেটা খুবই সামান্য। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আগের মতো ত্রাণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। বন্যায় একদিকে দিনমজুররা মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে অন্যদিকে কাজের জোগান না থাকায় তীব্র খাবার সংকটে ভুগছে। কৃষক ও খামারিরা নিজেদের খাবারের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাবার ও রাখার জায়গা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় পশুগুলোও রাখা যাচ্ছে না। সাইক্লোন শেল্টারে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে।
বন্যাকবলিতদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে চাল-ডাল, লবণ-তেল, বিশুদ্ধ পানি, চিঁড়া-মুড়ি, গুড়সহ শুকনো খাবারের পাশাপাশি দিয়াশলাই, মোমবাতি, স্যালাইন পৌঁছে দেওয়া জরুরি। খাদ্যসংকটে বন্যার্ত এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর শিশুদের কান্নায় বাবা-মায়েরা চরম দিশেহারা।
রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে ক্রমেই বন্যা রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসছে। বলা যায়, রাজধানীর আশপাশ ঘিরে ফেলেছে। রাজধানী ঢাকার তিন দিকে নদী। বন্যা দেখা দিলে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াভহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের আগাম প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।
দেশের রাজনীতিবিদদের মুখে সদা-সর্বদা জনসেবার খই ফোটে। তাদের বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে এই মুহূর্তে দাঁড়ানো দরকার। রাজনৈতিক-সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা জরুরি। সমাজের বিত্তবানদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। সর্বস্তরের সবাই সম্মিলিতভাবে না হোক, যার যার মতো করে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ালে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জায়গা সংকটের অভিযোগ, সম্প্রসারণ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো : সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন সিরাজগঞ্জের উদ্যোগে জুলাই গণঅ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাটগিরাই এলাকায় অবস্থ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited